শনিবার, ২১ আগস্ট, ২০২১

এক নজরে শেখ মুজিবুর রহমান - বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি - Sheikh Mujibur Rahman at a glance – BCS Exam Preparation – General Knowledge


  

শেখ মুজিবুর রহমান  - বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি - Sheikh Mujibur Rahman at a glance – BCS Exam Preparation – General Knowledge

শেখ মুজিবুর রহমান (মার্চ ১৭, ১৯২০ আগস্ট ১৫, ১৯৭৫)

পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে ১৯২০ খ্রিস্টাব্দের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান এবং মাতা সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি তৃতীয় সন্তান। তার বড় বোন ফাতেমা বেগম, মেজ বোন আছিয়া বেগম, সেজ বোন হেলেন ছোট বোন লাইলী; তার ছোট ভাইয়ের নাম শেখ আবু নাসের। তিনি বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসেবে বেশি পরিচিত; তার উপাধি বঙ্গবন্ধু', ডাক নাম খোকা, এলাকার মানুষ ডাকতো মিয়া ভাই বলে তার কন্যা শেখ হাসিনা ওয়াজেদ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান সভানেত্রী এবং বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

 

-বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম- শেখ মুজিবুর রহমান।

- আরবি শব্দ মুজিব অর্থ উত্তরদাতা।

-বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মহানায়ক-- শেখ মুজিবুর রহমান।

-হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি - শেখ মুজিবুর রহমান।

-তিনি কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালীন বেকার হোস্টেলের ২৩ ২৪ নং কক্ষে থাকতেন। ২৩ নং কক্ষটিকে গ্রন্থাগার এবং ২৪ নং কক্ষটিকে মিউজিয়ামে রুপান্তর করা হয়েছে  

-২৬ মার্চ, ১৯৭১ এর প্রথম প্রহরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়

-১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সাত বছর বয়সে গিমাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন।

-১৯৩৪ সালে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বেরিবেরি রোগ হয়, এসময় প্রায় বছর চিকিৎসা চলে, কলকাতায় তার চিকিৎসা করেন- ডা. শিবপদ ভট্টাচার্য একে রায় চৌধুরী।  

-১৯৩৬ সালে তার চোখে গ্লুকোমা নামক রোগ হয়, কলকাতায় তার রোগের চিকিৎসা করেন ডা, টি আহমেদ।

-১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে আঠারো বছর বয়সে তিনি ফজিলাতুন্নেসার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন বলে তথ্য পাওয়া গেলেও অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে তিনি উল্লেখ করেছেন-বিয়ের সময় তার বয়স ১২/১৩ কন্যারা হলেন- - শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। পুত্রদের নাম- শেখ কামাল, শেখ জামাল এবং শেখ রাসেল।

-প্রথম কারাবরণ করেন-১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে, ৭দিন কারাভোগের পরে জামিনে মুক্তি পান।

-শেখ মুজিবুর রহমান কারাবরণ করেন মোট-৪৬৮২ দিন (উৎস, জাতীয় সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী, মার্চ, ২০১৭)

-১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে মিশনারি স্কুলে পড়ার সময় থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়।

-১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নিখিল ভারত মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগ দেন।

-কলকাতা ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নকালীন সময়ে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন।

-১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেঙ্গল মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

-ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের মহাসচিব নির্বাচিত হন।

-রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ১১ মার্চ, ১৯৪৮ ধর্মঘট পালনকালে তিনি গ্রেফতার হন, কিন্তু ছাত্রসমাজের তীব্র প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

-১৯ মার্চ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন। সে সময় তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

-ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে বঙ্গবন্ধু চেয়ার রয়েছে- ইতিহাস বিভাগে।

-১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৮ তাকে আবার আটক করা হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।

-২০১০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার হৃত ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়।

-২৩ জুন, ১৯৪৯ মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান অংশের যুগ্ম সচিব নির্বাচিত হন।

-১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষবিরোধী মিছিলের নেতৃত্ব দেয়ায় আটক হন এবং দুই বছর জেল হয়।

-৯ জুলাই, ১৯৫৩ তিনি পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে দলের সেক্রেটারি জেনারেল (মহাসচিব) নির্বাচিত হন।

-১০ মার্চ, ১৯৫৪ সাধারণ নির্বাচনে তিনি গোপালগঞ্জ আসনে মুসলিম লীগ নেতা ওয়াহিদুজ্জামানকে ১৩,০০০ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।

-১৯৫৪ খিস্টাব্দের ১৫ মে তাঁকে কৃষি বন মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়  

-১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের জুন তিনি আইন পরিষদের সদস্য মনোনীত হন।

-৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৩ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান নেতায় পরিণত হন। -৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৬ লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের জাতীয় সম্মেলনে তিনি বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ ঐতিহাসিক ছয় দফা দাবী পেশ করেন।

-১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সরকার রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিব অন্যান্য শিরোনামে মামলা দায়ের করে।

-৫ ডিসেম্বর, ১৯৬৯ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ নামকরণ করেন।

-২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে বিশাল গণ-সম্বর্ধনায় ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করেন।

-৩ মার্চ, ১৯৭১ তাকে জাতির জনক বলে আখ্যা দেন .. আব্দুর রব।

-৭ মার্চ, ১৯৭১ রেসকোর্স ময়দানে জনসভায় তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন এবং ঘোষণা করেন এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

-যুদ্ধবর্তী সময়ে শেখ মুজিবকে বন্দি করে রাখা হলেও তার নামেই মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়, তিনিই মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক। পাকিস্তানি শাসকবৃন্দ শেখ মুজিবকে ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মুক্তি দেয়, তিনি-১০ জানুয়ারি, ১৯৭২ বাংলাদেশে ফিরে আসেন। তিনি গণপরিষদকে (Constituent Assembly) একটি নতুন সংবিধান রচনার দায়িত্ব দেন এবং চারটি মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র ঘোষণা করেন।

-১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর থেকে নতুন সংবিধান কার্যকর করা হয়।

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে জাতীয় নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান তার দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত সরকার গঠন করেন।

-শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনীগ্রন্থ- অসমাপ্ত আত্মজীবনী, প্রকাশকাল- জুন, ২০১২; প্রকাশ করেছে দি ইউনিভার্সিটি' প্রেস লিমিটেড। ইংরেজিতে “The Unfinished Memoirs' নামে অনূদিত শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী' পর্যন্ত অনূদিত হয়েছে- ৬টি ভাষায়; ইংরেজি, উর্দু, জাপানি, ফরাসি, আরবি চীনা ভাষায়।।

-১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের মোট ১৬ জনকে হত্যা করা হয়।

-১৫ আগস্ট ছিল, ১৯৭৫- ১৩৮২ বঙ্গাব্দের ২৯ শ্রাবণ এবং ১৩৯৫ হিজরির শাবান।

-১৫ আগস্ট, ১৯৭৫ ছিল শুক্রবার।

-শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলা দায়ের করা হয় ১৯৯৬ সালে, বাদী- মুহিতুল ইসলাম, চীফ প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আনিসুল হক (বর্তমানে আইনমন্ত্রী) মামলার চূড়ান্ত রায় হয়-- ২০০৯ সালে

-ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় ১৯৯৬ সালের ১৪ নভেম্বর।  

-১৫ আগস্ট বাংলাদেশে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালিত হয়।

-শান্তিতে অবদানের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান পেয়েছিলেন-- জুলিও কুরি পদক।

 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Trending