শুক্রবার, ১৩ আগস্ট, ২০২১

মুজিবনগর সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টর – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি – সাধারণ জ্ঞান – বাংলাদেশ - Mujibnagar Government and 11 sectors in Liberation war – BCS Exam Preparation

 

মুজিবনগর সরকার,মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টর,বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি,BCS Exam Preparation,সেক্টর কমান্ডার

মুজিবনগর সরকার ও মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টর বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ - Mujibnagar Government and 11 sectors in Liberation war – BCS Exam Preparation

- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

মুজিবনগর সরকারের গঠন কার্যাবলি

-বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় মুজিবনগরে; মুজিবনগর অবস্থিত মেহেরপুর

-বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়- ১০ এপ্রিল; অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১; শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান। মুজিবনগর দিবস পালিত হয়--১৭ এপ্রিল।

-বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের ঘোষণাপত্র পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী

-মেহেরপুরের ভবের পাড়া বৈদ্যনাথতলার মুজিবনগর নামকরণ করেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

-মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ছিল-১২টি, যথা: প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র, অর্থ, শিল্প বাণিজ্য, মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়, সাধারণ প্রশাসন, স্বাস্থ্য কল্যাণ বিভাগ, ত্রাণ পূনর্বাসন বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, যুব অভ্যর্থনা শিবিরের নিয়ন্ত্রণ বোর্ড।

-মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক গার্ড অব অনার প্রদান করে পুলিশ আনসার। নেতৃত্ব দেন-তকালীন চুয়াডাঙ্গার সাব ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বীর প্রতীক।

-১০ এপ্রিল সরকার সমগ্র বাংলাদেশকে ভাগ করে ৪টি সামরিক জোনে; জোনে নিযুক্ত করা হয় জন কমান্ডার।

পরে ১১ এপ্রিল তা পুননির্ধারিত করে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়।

-মুজিবনগরে গঠিত সরকার ছিল রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির।। শপথ বাক্য পাঠ করান- অধ্যাপক ইউসুফ আলী।

-মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে প্রবাসী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিবালয় ছিল থিয়েটার রোড, কলকাতা।

-বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

-অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম; প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমেদ।

-বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন- জেনারেল এমএজি ওসমানী; চিপ অব স্টাফের দায়িত্ব পালন করেন- কর্নেল (অব.) আবদুর রব, ডেপুটি চিপ অব স্টাফ- -গ্রুপ ক্যাপ্টেন কে খন্দকার।

-মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।।

-মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা ছিলেন আব্দুস সামাদ আজাদ; প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম এমএনএ; ক্যাবিনেট সচিব ছিলেন - হোসেন তৌফিক ইমাম (এইচ.টি.ইমাম)

-মুক্তিযুদ্ধকালীন যুক্তরাজ্যের মিশন প্রধান ছিলেন বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী; নয়া দিল্লি-- হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী; যুক্তরাষ্ট্রের এম আর সিদ্দিকি।

-বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান - এয়ার ভাইস মার্শাল একে খন্দকার।

-বাংলাদেশের প্রতি প্রথম আনুগত্য প্রকাশ করে কলকাতাস্থ পাকিস্তান মিশনের সহকারী কমিশনার হোসেন আলী (১৮ এপ্রিল)

-বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার পরিচিত ছিল- প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার বা মুজিবনগর সরকার নামে।

 

মুজিবনগরে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নেতৃবৃন্দ

 

দায়িত্ব নাম

রাষ্ট্রপতি - বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তানে বন্দী)

উপ-রাষ্ট্রপতি - সৈয়দ নজরুল ইসলাম (ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী - তাজউদ্দিন আহমদ (প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

অর্থমন্ত্রী - ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

পররাষ্ট্রমন্ত্রী - খন্দকার মোশতাক আহমেদ (আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী - এইচ এম কামরুজ্জামান (ত্রাণ পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত)

রাষ্ট্রপতির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা। আবদুস সামাদ আজাদ, এম এন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, এম এন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপদেষ্টা আবদুল মান্নান, এম এন

জয় বাংলা পত্রিকার উপদেষ্টা - জনাব জিল্লুর রহমান, এম এন

যুব শিবির নিয়ন্ত্রণ পরিষদ চেয়ারম্যান - অধ্যাপক ইউসুফ আলী, এম এন

 

 

মুক্তিযুদ্ধের রণকৌশল।

-মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র বাংলাদেশকে ভাগ করা হয়- ১১টি সেক্টরে।

-১১টি সেক্টরের মধ্যে ১০ নং সেক্টর ছিল- নৌ সেক্টর (নিয়মিত কমান্ডার ছিল না)

-১৯৭১ সালের এপ্রিল পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি (সেনাবাহিনী, রাইফেলস, আনসার পুলিশ সদস্যরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সম্মিলিত আক্রমণের যে পরিকল্পনা করেন তার নাম- তেলিয়াপাড়া রণকৌশল।

-বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঢাকা ছিল- নং সেক্টরের অধীন; চট্টগ্রাম- নং; রাজশাহী- নং; মুজিবনগর- নং' সিলেট-- নং; খুলনা নং এবং রংপুর দিনাজপুর ছিল- নং সেক্টরের অধীন।

-মুক্তিযুদ্ধে সমগ্র বাংলাদেশকে ভাগ করা হয় ৬৪টি সাব-সেক্টরে।

-মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নৌ কমান্ডারদের অভিযানের নাম অপারেশন জ্যাকপট; মুক্তিযুদ্ধের সময় অপারেশন জ্যাকপটে নৌ কমান্ডারদের নির্দেশ দেয়া হতো স্বাধীন বাংলা বেতারের গানের মাধ্যমে।

-মুক্তিযুদ্ধের সময় বিগ্রেড আকারে গঠিত হয়েছিল ৩টি ফোর্স, যথা: জেড ফোর্স, এস ফোর্স, কে ফোর্স।।

-জেড ফোর্সের কমান্ডার ছিলেন লে. কর্নেল জিয়াউর রহমান; এস ফোর্সের লে. কর্নেল কে এম শফিউল্লাহ এবং কে ফোর্সের লে. কর্নেল খালেদ মোশারফ।

-মুজিবনগর সরকারের কার্যকারিতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয় Charter of Independence বলে।

-জীবিত সেক্টর কমান্ডারদের নাম মেজর রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম (১নং সেক্টর) চাঁদপুর- আসনের এমপি।

-মেজর কে এম শফিউল্লাহ (৩নং সেক্টর) সদস্য, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম।।

-মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (৮নং সেক্টর) সদস্য, সেক্টর কমান্ডার ফোরাম।

-চিত্ত রঞ্জন দত্ত/সি আর দত্ত (৪নং সেক্টর) --- হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ প্রধান।

 

সেক্টর গঠনঃ  

-১০ জুলাই, ১৯৭১ থেকে ১৭ জুলাই, ১৯৭১ পর্যন্ত মুক্তিবাহিনী সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে যুদ্ধ অঞ্চলের অধিনায়কদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনে বাংলাদেশকে ১১টি যুদ্ধ সেক্টরে বিভক্ত করে সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়।

 

সেক্টর এলাকা কমান্ডার

সেক্টর-১ - চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং ফেনী নদী পর্যন্ত  - মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল-জুন) মেজর মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম (জুন-ডিসেম্বর)

সেক্টর- নোয়াখালী কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ঢাকা ফরিদপুর জেলার অংশবিশেষ - মেজর খালেদ মোশাররফ (এপিল-সেপ্টেম্বর) মেজর টি এম হায়দার (সেপ্টে.-ডিসে.)

সেক্টর- আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে পূর্ব দিকের কুমিল্লা জেলা, সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা এবং ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ মহকুমা ঢাকা জেলার অংশবিশেষ - মেজর কে এম শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর)

সেক্টর- সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল, খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন থেকে পূর্ব উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক - মেজর সি আর দত্ত

সেক্টর- সিলেট জেলার পশ্চিম এলাকা এবং সিলেট- ডাউকি সড়ক থেকে সুনামগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক পর্যন্ত - মেজর মীর শওকত আলী

সেক্টর- ব্রহ্মপুত্র নদের তীরাঞ্চল ছাড়া সমগ্র সড়ক থেকে রংপুর জেলা দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও - উইং কমান্ডার এম কে বাশার

সেক্টর- সমগ্র রাজশাহী জেলা, ঠাকুরগাঁও মহকুমা ছাড়া দিনাজপুর জেলার বাকি অংশ এবং ব্রহ্মপুত্র নদের তীরাঞ্চল ছাড়া সমগ্র বগুড়া পাবনা জেলা - মেজর নাজমুল হক, মেজর কাজী নুরুজ্জামান

সেক্টর- সমগ্র কুষ্টিয়া যশোর জেলা এবং ফরিদপুরের অংশবিশেষ ছাড়াও পর্যন্ত) দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক পর্যন্ত খুলনা জেলার এলাকা। মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (আগস্ট পর্যন্ত) মেজর এম মঞ্জুর (আগস্ট থেকে ডিসেম্বর)

সেক্টর- সাতক্ষীরা সীলতপুর সড়কসহ খুলনা সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল এবং বরিশাল পর্যন্ত) পটুয়াখালী জেলা - মেজর এম জলিল (ডিসেম্বর অর্ধেক পর্যন্ত) মেজর এম মঞ্জুর (অতিরিক্ত দায়িত্ব)

সেক্টর-১০ নৌ সেক্টর; অভ্যন্তরীণ নৌ-পথ এবং সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা চট্টগ্রাম চালনা - নিয়মিত  সেক্টর কমান্ডার ছিলো না। মুক্তিবাহিনীর ট্রেনিংপ্রাপ্ত নৌ-কমাণ্ডোরা যখন যে সেক্টরে এ্যাকশনে গিয়েছেন, তখন সেসব সেক্টর কমান্ডারদের নির্দেশ মোতাবেক কাজ করেছেন।

সেক্টর-১১ কিশোরগঞ্জ ছাড়া সমগ্র ময়মনসিংহ পর্যন্ত এবং টাঙ্গাইল জেলার অংশ - মেজর আবু তাহের ( ডিসেম্বর পর্যন্ত) ফ্লাইট লে. এম. হামিদুল্লাহ ( ডিসেম্বর থেকে স্বাধীনতা পর্যন্ত)। 

Tags: মুজিবনগর সরকার, মুক্তিযুদ্ধের ১১ সেক্টর, বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি, BCS Exam Preparation, সেক্টর কমান্ডার

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Trending