বৃহস্পতিবার, ১২ আগস্ট, ২০২১

এক নজরে মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সাল – সাধারণ জ্ঞান – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি – Liberation war 1971 at a glance – General Knowledge – BCS Exam preparation

 

এক নজরে মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১,বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি,Liberation war 1971,BCS Exam preparation,স্বাধীনতার ঘোষণা,৭ মার্চের ভাষণ,পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ,General knowledge,সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ,

এক নজরে মুক্তিযুদ্ধ ও ১৯৭১ সাল সাধারণ জ্ঞান বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি Liberation war 1971 at a glance – General Knowledge – BCS Exam preparation

 - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -

অসহযোগ আন্দোলন-১৯৭১

১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয় মার্চ এবং সমাপ্ত হয়- ২৪ মার্চ।

অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতেই মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তোলন করা হয়- মানচিত্র খচিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা; জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন- আব্দুর রব (তকালীন) ডাকসুর ভিপি।

মার্চ গঠন করা হয় স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ।

অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম ছয় দিনে হতাহতের সংখ্যা ছিল- নিহত ১৭২ আহত ৩৫৮ জন (সরকারি প্রেস নোট অনুযায়ী)

ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন- মার্চ, ১৯৭১; অধিবেশন স্থগিতের প্রতিবাদে সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল পালিত হয়- মার্চ, ১৯৭১

বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করে- মার্চ, ১৯৭১; পাঠ করেন সাজাহান সিরাজ।

আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি গানটি পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় সংগীত হিসেবে গৃহীত হয়—— মার্চ, ১৯৭১

পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালন করে মার্চ।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার শিল্পী- কামরুল হাসান।

অসহযোগ আন্দোলন সমাপ্ত হয় - স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে।

 

মার্চের ভাষণ

 

বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের মার্চের ভাষণের সময়কালে পূর্ব পাকিস্তানে চলছিল-- অসহযোগ আন্দোলন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান); ভাষণে তিনি পেশ করেন- দফা দাবি; ভাষণের মূল বক্তব্য ছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম তথা মুক্তি সগ্রামের ঘোষণা (পরোক্ষভাবে)

মার্চ বিখ্যাত - বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জন্য; ভাষণে তিনি ঘোষণা করেন- এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক মার্চের ভাষণ শুরু হয় বিকেল টায়; ভাষণের স্থায়িত্বকাল ছিল- ১৯ মিনিট। শব্দ সংখ্যা-১১০৮টি।

মার্চের ভাষণের চার দফার প্রথম দফা ছিল--- সামরিক শাসন প্রত্যাহার।

মার্চের ভাষণের দফা চারটি ছিল-- সামরিক আইন প্রত্যাহার, সৈন্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া, গণহত্যার তদন্ত করা এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।

মার্চের ভাষণের শেষকথা ছিল-- জয় বাংলা।

পূর্ব পশ্চিম পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেয়ার ফর্মুলা দেন- ভুট্টো।

অসহযোগ আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধি পায়- মার্চের ভাষণের পরে।

পাকিস্তানি সৈন্যরা জয়দেবপুরে নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালায় ১৯ মার্চ, ১৯৭১

জাতিসংঘের সংস্থা UNESCO মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য (Memory of the World Register) ঘোষণা করে- ৩০ অক্টোবর, ২০১৭

 

 

স্বাধীনতার ঘোষণা

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন ২৫ মার্চ রাত্রি বারোটার পর অর্থাৎ ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে। ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ।

স্বাধীনতার ঘোষক- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণাটি বিবিসির প্রতি অধিবেশনে প্রচারিত হয়- ২৬ মার্চ।

২৬ মার্চ, ১৯৭১- বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা জারি করেন- ওয়্যারলেসের মাধ্যমে।

বঙ্গবন্ধুর জারি করা মূল ঘোষণাটি ছিল ইংরেজিতে। ঘোষণাটি বাংলায় অনুবাদ করেনডু, মনজুলা আনোয়ার

বঙ্গবন্ধুর পক্ষে চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আব্দুঃ হান্নান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণাটি প্রচার করেন--২৬ মার্চ, ১৯৭১

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম প্রচার শুরু করে কালুরঘাট থেকে।

মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পুনরায় স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন ২৭ মার্চ সন্ধ্যায়

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার লক্ষ্যে পরিচালিত অপারেশনের আর্মি কোড নেইম ছিলদি বিগবার্ড।

বিগবার্ড অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করেন মেজর জহির আলম।

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে গ্রেফতারের খবর জানাতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন- Big Bird in Cage..

বাংলাদেশের জাতীয় দিবস স্বাধীনতা দিবস- ২৬ মার্চ; ২৬ মার্চকে স্বাধীনতা দিবস ঘোষণা করা হয় ১৯৮০ সালে।

স্বাধীনতা ঘোষণা সংবিধানে সংযোজিত হয় পঞ্চদশ সংশোধনীতে।

আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র জারি করা হয়- ১০ এপ্রিল, ১৯৭১; দিনে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়- ১৭ এপ্রিল, ১৯৭১; পাঠ করেন অধ্যাপক ইউসুফ আলী; পাঠ করা হয় মুজিবনগরে।

বাংলাদেশ ছাড়া আর যে দেশের স্বাধীনতা ঘোষণাপত্র রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করেন- ৩২ নং ধানমন্ডির বাসা থেকে; শুধু ৩২ নম্বর উল্লেখ করলে যে বিখ্যাত বাড়িকে বুঝায় তা হলো- ধানমন্ডি, ঢাকার সে সময়কার ৩২ নম্বর সড়কের বঙ্গবন্ধুর বাসভবন।

হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যরা বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির বাড়ি আক্রমণ করে২৫ মার্চ, ১৯৭১

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ছিল বৃহস্পতিবার।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বর্বর পাকিস্তান সামরিক বাহিনী যে সশস্ত্র অভিযান চালায় তার নাম অপারেশন সার্চ লাইট

অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হয় ২৫ মার্চ রাত ১১:৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করার মধ্য দিয়ে।

অভিযানে ঢাকা শহরের মূল দায়িত্ব দেয়া হয়- জেনারেল রাও ফরমান আলীকে।

গণহত্যা দিবস- ২৫ মার্চ। প্রথম পালিত হয়। ২০১৭ সালে।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ ভারতের সমন্বয়ে যৌথ বাহিনী গঠিত হয়- ২১ নভেম্বর, ১৯৭১; যৌথ বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন-- জেনারেল আমির আবদুল্লাহ খান ( কে খান)

শেখ মুজিবুর রহমানকে পাকিস্তানে বন্দি করে রাখা হয় করাচির লায়ালপুরের মিয়ানওয়ালী জেলখানায়

 

 

স্বাধীনতার ঘোষণার বাংলা অনুবাদ।

ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছ, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

 

পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়

পাক হানাদার বাহিনীর ইস্টার্ন কমান্ডের অধিনায়ক লে. জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী বাংলাদেশ ভারতের সম্মিলিত মিত্র মুক্তিবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় প্রধান লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নিকট আত্মসমর্পণ করেন ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা যশোর ( ডিসেম্বর, ১৯৭১)

পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ করে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান); আত্মসমর্পণ করে ৯৩ হাজার পাকিস্তানি সৈন্য।

প্রথম আত্মসমর্পণকারী পাক সেনানায়ক মেজর জেনারেল জামশেদ।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দিন বাংলাদেশের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন-গ্রুপ ক্যাপ্টেন একে খন্দকার।

মুক্তিযুদ্ধে আত্মসমর্পণের দলিল স্বাক্ষরিত হয় রেসকোর্স ময়দানে।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলা সন বার ছিল--১৩৭৮ সন বৃহস্পতিবার।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১, বাংলাদেশের বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর।

ভারতীয় বাহিনীর সাথে প্রথম ঢাকায় প্রবেশ করে কাদেরীয়া বাহিনী।

স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশ থেকে ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু হয় ১২ মার্চ, ১৯৭২

মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনী যে নৃশংস বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ চালায় তা হলো- বুদ্ধিজীবী হত্যাযজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী দিবস- ১৪ ডিসেম্বর।

মুক্তিযুদ্ধের একজন বিখ্যাত শহীদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী;

শহীদ দার্শনিক-- . জিসি দেব (গোবিন্দচন্দ্র দেব)

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে বঙ্গভবনে আসেন--ইন্দিরা গান্ধী (ভারত)

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন দেশে ফিরে আসেন ১০ জানুয়ারি, ১৯৭২; পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্তি পান জানুয়ারি, ১৯৭২

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম স্থাপিত হয় চট্টগ্রামের কালুরঘাটে; স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে চরমপত্র জল্লাদের দরবার পাঠ করতেন এম আর আক্তার মুকুল।

মুক্তিযুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে--ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, গাজীপুর, ১৯ মার্চ, ১৯৭১

স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য বীরত্বসূচক পদক দেয়া হয়--- ৬৭৬ জনকে, তন্মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ জন, বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম-১৭৫ জন বীর প্রতীক- ৪২৬ জন। (হিন্দু ১, বিদেশী ১, উপজাতি ১)

Tags: এক নজরে মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১,বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি,Liberation war 1971,BCS Exam preparation,স্বাধীনতার ঘোষণা,৭ মার্চের ভাষণ,পাক বাহিনীর আত্মসমর্পণ,General knowledge,সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ,

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Trending