বুধবার, ১১ আগস্ট, ২০২১

এক নজরে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস – বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি – সাধারণ জ্ঞান – বাংলাদেশ – History of ancient Bangladesh – BCS Exam Preparation – General Knowledge - Bangladesh

 

BCS Exam preparation,General knowledge,বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি,সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ,এক নজরে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস,History of ancient Bangladesh

এক নজরে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি সাধারণ জ্ঞান বাংলাদেশ History of ancient Bangladesh – BCS Exam Preparation – General Knowledge - Bangladesh

- - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - - -  

-বাঙালি জাতির উদ্ভব বিকাশ বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জাতিগোষ্ঠী থেকে; বাংলার আদি অধিবাসীগণের ভাষাও ছিল অস্ট্রিক।

-আর্যরা এদেশে এসেছে ইরান থেকে, তাদের আদি বাসস্থান- ইউরাল পর্বতের দক্ষিণ তৃণভূমি অঞ্চল, ধর্ম- সনাতন, ধর্মগ্রন্থ বেদ, ভারতে প্রথম বসতি স্থাপন করে উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত অঞ্চল পাঞ্জাব।

-নৃতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশের মানুষ অন্তর্ভুক্ত- আদি অস্ট্রেলীয় নরগোষ্ঠী, বাংলাদেশের প্রাচীন জাতি-- দ্রাবিড়, বর্তমানে বাঙালি জাতির পরিচয় সংকর জাতি হিসেবে।

-বাংলার আদি উপজাতি- কোল, ভেল, সাঁওতাল, মুন্ডা প্রভৃতি।

-নিষাদ জাতি বলা হয় অস্ট্রিক গোষ্ঠী থেকে উদ্ভূত বাঙালি জাতিকে।

-সিন্ধু সভ্যতা প্রথম আবিষ্কার করেন--- রাখাল দাস বন্দ্যোপাধ্যায়, সিন্ধু সভ্যতায় পাওয়া যায়-- তাম্র-ব্রোঞ্জ যুগের নিদর্শন।

বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ পুণ্ড্র, পুণ্ড্রের রাজধানী ছিল পুণ্ড্রনগর, পুণ্ড্র জনপদের বিস্তৃতি- বর্তমান বগুড়া, রাজশাহী দিনাজপুর জেলা জুড়ে।

-মহাস্থানগড় পুণ্ড্র নগরী যে একই তা সনাক্ত করেন--- কানিংহাম।

-প্রাচীনকালে এদেশের নাম ছিল- বঙ্গ, বঙ্গ নামের উল্লেখ প্রথম পাওয়া যার ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে, সর্বপ্রথম দেশবাচক শব্দ বাংলা ব্যবহৃত হয়- আবুল ফজলের আইন- আকবরী গ্রন্থে।

-বর্তমান বৃহত্তর ঢাকা জেলা প্রাচীনকালে অন্তর্ভুক্ত ছিল- বঙ্গ জনপদের; বৃহত্তর বরিশাল ফরিদপুর জেলাও প্রাচীনকালে অন্তর্ভুক্ত ছিল- বঙ্গের।

-বাংলার প্রাচীন জনপদ শাসনামল মৌর্যযুগে বাংলার প্রাদেশিক রাজধানী ছিল- পুণ্ড্রনগর, গৌড়ের কর্ণসুবর্ণ, রাঢ়ের কোটিবর্ষ

-চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজ্যসভার গ্রিক দূত ছিলেন মেগাস্থিনিস, মেগাস্থিনিস ভারবর্ষ সম্পর্কে মূল্যবান তথ্য লিপিবদ্ধ করেন ইন্ডিকা গ্রন্থে।

-বরেন্দ্র বলতে বর্তমানে বুঝায়- রাজশাহী অঞ্চল/বিভাগকে; রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বরেন্দ্রভূমি।

-প্রাচীনকালে সমতট বলতে বুঝাতো- কুমিল্লা নোয়াখালী অঞ্চলকে, সমতট রাজ্যের কেন্দ্রস্থল ছিল কুমিল্লার বড়কামতায়।

-প্রাচীন গৌড় নগরীর অংশ বিশেষ অবস্থিত- চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

-সর্বপ্রথম গৌড় নামের উল্লেখ পাওয়া যায়- পাণিনির গ্রন্থে।

-বাংলাদেশের পূর্বাংশে অবস্থিত ছিল প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদ।

-বর্তমান সিলেট জেলা প্রাচীনকালে অন্তর্ভুক্ত ছিল হরিকেল জনপদের।

-প্রাচীন রাঢ় জনপদের অবস্থান- বর্ধমান।

-মৌর্য গুপ্ত বংশের রাজধানী ছিল - গৌড়, সুলতানী আমলেও বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়

-মহাস্থানগড় এক সময় বাংলার রাজধানী ছিল; তখন তার নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।।

-প্রাচীন বাংলায় রাজ্য ছিল দুটি স্বাধীন বঙ্গ স্বাধীন গৌড় রাজ্য; বাঙালি জাতির উৎপত্তি বঙ্গ নাম থেকে।

-ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম সাম্রাজ্য মৌর্য সাম্রাজ্য, ৩২১ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ভারতে মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন-- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য তার রাজধানীর নাম- পাটলিপুত্র (পালিবোথরা) চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- চাণক্য, যার ছদ্মনাম কৌটিল্য; কৌটিল্য রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ- অর্থশাস্ত্র।

-মৌর্য বংশের তৃতীয় সম্রাট অশোক, উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। সম্রাট অশোকের সময় কলিঙ্গ যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে সম্রাট অশোক গ্রহণ করেন বৌদ্ধধর্ম। তাঁকে বলা হয় বৌদ্ধ ধর্মের কনস্ট্যানটাইন।

-ভারতে গুপ্ত বংশ প্রতিষ্ঠিত হয়৩২০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে, গুপ্ত বংশের রাজধানী ছিল পাটলিপুত্র, বাংলায় গুপ্তবংশের রাজধানী ছিল - পুণ্ড্রনগর গুপ্তবংশের প্রতিষ্ঠাতা প্রথম চন্দ্র গুপ্ত; শ্রেষ্ঠ রাজা- সমুদ্রগুপ্ত; শেষ রাজা দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত; যার উপাধি ছিল - বিক্রমাদিত্য।

-গ্রিক বীর আলেকজান্ডার ভারত আক্রমণ করেন ৩২৭-৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে; আলেজান্ডার অগ্রসর হয়েছিলেন- সিন্ধু নদীর তীর পর্যন্ত; তার শিক্ষক ছিলেন এরিস্টটল।

-চারজন গ্রিক গুরু শিষ্যের ক্রম হলো সক্রেটিস প্লেটো - এরিস্টটল আলেকজান্ডার।

-পরিব্রাজক ফা-হিয়েন বাংলায় আসেন-- দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনামলে (৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে), তিনি ছিলেন প্রথম চৈনিক পরিব্রাজক। আর বাংলায় প্রথম পরিব্রাজক ছিলেন মেগাস্থিনিস।

-চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ-এর দীক্ষাগুরু ছিলেন- শিলভদ্র, শিলভদ্র আচার্য ছিলেন নালন্দা বিহারের; নালন্দা বিহার প্রতিষ্ঠিত হয় খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে, এটি বর্তমানে ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত।

-বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা শশাঙ্ক, তিনি বাংলার জনপদগুলোকে গৌড় নামে একত্রিত করে রাজধানী স্থাপন করেন - কর্ণসুবর্ণে (মুর্শিদাবাদে) তার উপাধি ছিল- মহাসামন্ত, প্রথম জীবনে তিনি ছিলেন কৃষক, ৭ম শতকের শুরুতে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।

-বাংলায় প্রথম বংশানুক্রমিক শাসন সূচিত হয়-- পাল বংশের মাধ্যমে; পাল বংশের রাজাগণ বাংলায় রাজত্ব করেন প্রায় চারশ বছর।

-পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল; শ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল; শেষ রাজা রামপাল

-সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা- হেমন্ত সেন, শ্রেষ্ঠ সম্রাট-- বিজয় সেন, শেষ রাজা লক্ষণ সেন (বাংলার শেষ হিন্দু রাজা); সেন রাজা বল্লাল সেন রচিত গ্রন্থ-- দানসাগর অদ্ভুত সাগর

-শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় দীর্ঘদিন যোগ্য শাসকের অভাবে যে অরাজক বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে তাকে বলা হয়- মাৎসান্যায়; সময়কাল-৭ম-৮ম শতক।

-বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধ; বুদ্ধের জন্মস্থান- লুম্বিনী (নেপাল); বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থের নাম ত্রিপিটক।

 

বিভিন্ন শাসক শাসনামলে বাংলার রাজধানী

শাসনামল - রাজধানী

সুলতানি আমল - গৌড়

মৌর্য গুপ্ত বংশ - গৌড়

মৌর্যযুগ - পুণ্ড্রনগর

লক্ষণসেন - নদীয়া

রাজা শশাঙ্কের রাজধানী - কর্ণসুবর্ণ

গুপ্ত রাজবংশ - বিদিশা

হর্ষবর্ধন - কনৌজ

ঈসা খা - সোনারগাঁ

Tags: BCS Exam preparation,General knowledge,বিসিএস পরীক্ষা প্রস্তুতি,সাধারণ জ্ঞান - বাংলাদেশ,এক নজরে প্রাচীন বাংলার ইতিহাস,History of ancient Bangladesh

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Trending