মার্কো পোলোর দুঃসাহসী অভিযান - The adventurous expedition of Marco Polo

মার্কো পোলোর দুঃসাহসী অভিযান - The adventurous expedition of Marco Polo

মার্কোপোলোর দুঃসাহসী অভিযান - The adventurous expedition of Marco Polo
মার্কো পোলো তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে নিজেই উল্লেখ করেছেন, ১২৫৪ খ্রিস্টাব্দে ভেনিসে তার জন্ম হয়েছিল পিতার নাম নিকোলো পোলো এবং কাকা মাফেও পোলো তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, বাবা এবং কাকার আগ্রহেই তিনি প্রাচ্যদেশ-ভ্রমণে বাহির হয়েছিলেন
নিকালো পোলো এবং মাফেও পোলো বাণিজ্যের দ্বারা লক্ষ্মীকে ঘরে বেঁধেছিলেন যে-বছর মার্কো পোলো জন্মগ্রহণ করলেন, সেই বছর লোকমুখে তাঁরা শুনতে পেলেন, দূরপ্রাচ্যের দেশসমূহ এক একটি সোনার রাজ্য পথে-ঘাটে ছড়িয়ে আছে সোনা-দানা, মণি-মুক্তা যেমন স্বর্ণলঙ্কা সম্বন্ধে ভারতের মানুষ এককালে ধারণা পোষণ করত ভাবত, লঙ্কায় একসের চালের বিনিময়ে একসের সোনা পাওয়া যায় লোকমুখে বহুল প্রচারিত অত্যাশ্চর্য সংবাদগুলি শ্রবণ করতে-করতে পোলোরা মনে-মনে ভাবলেন, যেমন করেই হোক সেই সোনার দেশ একবার দেখতে হবে অবশ্য সোনার লোভও ছিল তাঁদের যথেষ্ট তাই একদিন পথের শতেক বাধাকে তুচ্ছ করে বেরিয়ে পড়লেন প্রাচ্যের দেশগুলোর দিকে সঙ্গে নিলেন বেশকিছু জিনিশপত্র, যা প্রাচ্যে পাওয়া যায় না বলে তাঁদের ধারণা ছিল পোলোরা প্রথমে গেলেন কনস্তান্তিনোপলে, তারপর সেখান থেকে সোজা বোখারা বোখারায় শুনতে পেলেন চীনদেশের ঐশ্বর্যের কথা সুযোগ খুঁজতে লাগলেন চীনে যাওয়ার জন্য
পোলোদের কপাল ভালো দৈবক্রমে একদিন বোখারার এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে আলাপ হল লোকটি চীনের সম্রাট কুবলাই খার পরিচিত ছিলেন এবং মাঝে-মাঝে যাতায়াত করতেন রাজদরবারে পোলোদের ব্যবহারে অত্যন্ত প্রীতিলাভ করেছিলেন তিনি যখন জানতে পারলেন পোলোরা চীনে যেতে চান, তখন দ্বিধা না করে নিজেই পোলোদের সঙ্গে করে নিয়ে গেলেন পিকিংএ সম্রাট কুবলাই খাঁর দরবারে
বোখারা থেকে পিকিং অনেক দিনের পথ প্রায় একবছর কেটে গেল রাস্তায় তারপর একদিন শুভক্ষণে সেই পথপ্রদর্শক ভদ্রলোকের সঙ্গে পোলোরা দুরুদুরু বুকে প্রবেশ করলেন দরবারে সম্রাটের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করে এবং সামনে মূল্যবান উপঢৌকন সাজিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন তাঁরা কুবলাই খাঁ দেখেই বুঝতে পারলেন, ওঁরা বিদেশী প্রীতও হলেন তাঁদের ব্যবহারে বিদেশীদের প্রতি যথেষ্ট সম্মানও দেখালেন সম্রাট তারপর তাদের স্থান নির্দিষ্ট করে দিলেন আপন প্রাসাদে পরমসুখে কালযাপন করতে লাগলেন পোলো-ভ্রাতৃদ্বয় স্বাভাবিক কৌতুহলবশত সম্রাট মাঝে মাঝে পোলোদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেন তাঁদের দেশের কথা কত দূরে, কেমন সে দেশ, তাদের আচার-ব্যবহার, চাল-চলন ও পোশাক-পরিচ্ছদ, আহার-বিহার, ধর্ম, রাজা এবং রাজপুরুষ ইত্যাদি নানা কথা গল্প শুনতে-শুনতে সম্রাট কখন ভালোবেসে ফেললেন পোলোদের সেইসঙ্গে পোলোদের মুখে ঈসা (আঃ) এর বাণী বারবার শ্রবণ করতে-করতে তাদের ধর্মের প্রতিও আকর্ষণ বোধ করলেন ভাবলেন, এই ধর্ম তাঁর দেশেও প্রচারিত হওয়া উচিত কিন্তু কে করবে এই ধর্মপ্রচার সম্রাট একদিন মনের কথা জানালেন পোলোদের সম্রাট পোলোদের নির্দেশ দিলেন, অন্তত একশোজন ধর্মপ্রচারককে এনে দিতে হবে তার রাজ্যে পোলোদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনেরও ভালোভাবে ব্যবস্থা করে দিলেন তিনি সেইসঙ্গে প্রদান করলেন পাথেয় এবং বহুমূল্য উপহার।।
সুদীর্ঘ পনেরো বছর পরে পোলোরা এলেন ভেনিসে
যখন নতুন পোপ কার্যভার গ্রহণ করলে, তখনই পোলো-ভ্রাতৃদ্বয় একদিন জানালেন সম্রাট কুবলাই খার নির্দেশ কিন্তু অধিকাংশ ধর্মপ্রচারক এত দূরদেশ গমন করতে অসম্মতি প্রকাশ করলেন অবশেষে মাত্র কয়েকজন ধর্মপ্রচারককে সঙ্গে করে পোলোরা যাত্রা করলেন চীন এবার সঙ্গী হলেন তাঁদের পনেরো বছরের ছেলে মার্কো
মার্কো পোলো তার ভ্রমণবৃত্তান্তে বলেছেন, চীনদেশে পৌঁছতে তাদের লেগেছিল চার-চারটে বছর কোন্ কোন্ দেশের ভেতর দিয়ে তাদের যেতে হয়েছিল, সে-কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি বলেছেন : আর্মেনিয়া, পারস্য, আফগানিস্তান, মধ্য-এশিয়ার মালভূমি এবং তুর্কিস্তান অতিক্রম করে তবেই প্রবেশ করেছিলেন চীনে পোলোরা চীনে যখন উপস্থিত হলেন তখন গ্রীষ্মকাল সম্রাট কুবলাই খাঁ কিংহান নামক পর্বতে তাঁর গ্রীষ্মাবাসে অবস্থান করছিলেন পোলোরা মহা-অসুবিধায় পড়লেন বাধ্য হয়ে তাদের গোবি মরুভূমি অতিক্রম করে কিংহান প্রাসাদে উপস্থিত হতে হল
দীর্ঘকাল পরে পোলোদের ফিরে আসতে দেখে সম্রাট অত্যন্ত খুশি হলেন খুশি হলেন ধর্মপ্রচারকদের দেখেও পূর্বের চেয়েও খাতির করলেন পোলোদের আর তরুণ মার্কোর ভ্রমণের নেশা দেখে এত প্রীত হলেন যে সমগ্র চীনদেশটা ঘুরে-ঘুরে দেখার জন্য ভালোভাবে ব্যবস্থা করে দিলেন সেইসঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজের ভারও দিলেন মার্কোর উপর বললেন, রাজ্যে যেখানে যত দর্শনীয় বস্তু, বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষের জীবনযাত্রা এবং তাদের অভাব অভিযোগ, পশু-পাখি গাছপালা, সবকিছু সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করে প্রদান করতে হবে তাকে এমন একটা সুন্দর কাজের ভার পেয়ে মার্কোও হলেন বেজায় খুশি প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে পড়লেন চীনদেশ পরিভ্রমণে সুদীর্ঘকাল নানাস্থানে ঘোরাফেরার পর একদিন মার্কো পোলো ফিরে এলেন সম্রাটের দরবারে দাখিল করলেন তাঁর বিবরণী সেই বিবরণী পাঠ করে সম্রাট হলেন স্তম্ভিত এত খুঁটিনাটি বিবরণ তাঁর রাজ্যের সমীক্ষকদলও প্রদান করতে পারেননি
মার্কো পোলোর প্রতি সম্রাটের ভালোবাসা দ্বিগুণ হল নিযুক্ত হলেন রাজ্যের তথ্য-সংগ্রাহক হিসাবে কেবল তাই নয়, মার্কোর ভ্রমণের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখে সম্রাট দূরবর্তী দেশসমূহেও তাঁকে প্রেরণ করতে লাগলেন রাজনৈতিক অবস্থা প্রত্যক্ষ করার জন্য
মার্কো পোলো তাঁর ভ্রমণকাহিনীতে উল্লেখ করেছেন, সম্রাটের আদেশে তিনি তিব্বত এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া ভ্রমণ করার সুযোগ লাভ করেছিলেন ভারতবর্ষেও এসেছিলেন তিনি বেশ কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন বঙ্গভূমিতে গমন করেছিলেন জাপান, সুমাত্রা প্রভৃতি দেশসমূহে সব দেশেরই রেখে গেছেন কিছু কিছু বিবরণ তবে চীনদেশ এবং সম্রাট কুবলাই খার রাজত্ব সম্বন্ধে যতখানি বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেছেন, এমনটি অপর কোনো দেশের জন্য করেননি অবশ্য সম্রাটের পৃষ্ঠপোষক মার্কোর পক্ষে এটাই স্বাভাবিক ছিল মার্কো পোলো তার বিবরণীতে কয়লার উল্লেখ করেছেন খনি থেকে উত্তোলিত কয়লা দেখে তিনি যেভাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাতে মনে হয়, প্রাচ্যেই প্রথম পাথুরে কয়লাকে কাজে লাগানো হয়েছিল তিনি বলেছেন, চীনে আমি একধরনের আশ্চর্য কালো পাথর দেখেছি ঐ পাথরগুলো ক্যাথওয়ে প্রদেশে পাওয়া যায় মানুষ ওকে কাঠের মতোই জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করে তিনি আরও বলেছেন, কালো পাথরগুলোতে অগ্নিসংযোগ করলে প্রথম-প্রথম আগুন আদৌ ধরে না কিন্তু একবার আগুন ধরিয়ে দিতে পারলে আর নেভে না এবং প্রচণ্ড তাপ উৎপাদন করে
সে-সময় প্রাচ্যের দেশগুলোতে-যে গুটিপোকার চাষ হত-কথাও উল্লেখ করেছেন আর উল্লেখ করেছেন প্রাচ্যের ঐশ্বর্যের কথা ভ্রমণকাহিনীর কোনো-কোনো অংশে আছে ঐশ্বর্যের ফলাও বর্ণনা কুবলাই খার দরবারে ছিল সোনার ছড়াছড়ি জাপান ও ভারতবর্ষ ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ দেশ পথেঘাটে সোনা না-পাওয়া গেলেও সাধারণের অবস্থা বেশ ভালোই ছিল ভারতের উৎপন্ন পদার্থ, পশু-পাখি, জনসাধারণের জীবনযাত্রা প্রণালী প্রভৃতি অনেককিছুর বর্ণনা আছে মার্কো পোলোর বিবরণীতে
প্রকৃতপক্ষে পাশ্চাত্যের মানুষ প্রাচ্যের ঐশ্বর্যের কথা প্রথম জানতে পেরেছিলেন মার্কো পোলোর বিবরণী থেকে মধ্যযুগে ভৌগোলিক আবিষ্কারের জন্য পাশ্চাত্যে যে-বিপুলভাবে সাড়া পড়ে গেছিল তার মূলে ছিল প্রাচ্যের সম্পদের প্রতি পাশ্চাত্যের লালসা ব্যবসার মাধ্যমে চেয়েছিল প্রাচ্যের সম্পদকে হস্তগত করতে এককথায় দেশ আবিষ্কারের পিছনে আছে মার্কো পোলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান
মার্কো পোলো বলেছেন, প্রায় সতেরো বছর কাল তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহ পরিভ্রমণ করেছিলেন তখনও তার বাবা নিকালো পোলো এবং কাকা মাফেও পোলো অবস্থান করছিলেন চীনের রাজপ্রাসাদে মার্কোর প্রত্যাবর্তনের পর পোলোরা দেশে যাওয়ার জন্য একেবারে অস্থির হয়ে উঠলেন শেষ বয়সটা জন্মভূমিতেই কাটাতে চাইলেন নিকালো এবং মাফেও পোলো মার্কোও সম্মত হলেন তাদের প্রস্তাবে কিন্তু ঘরে ফেরা এত সহজ ছিল না সম্রাট তাঁদের প্রাসাদে স্থান দান করেছেন চীনে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য তবু পোলোরা সমাটের কাছে রাখলেন তাঁদের প্রস্তাব কুবলাই খাঁ কিছুই বললেন না
পোলোরাও ভয় পেলেন দ্বিতীয়বার সম্রাটের কাছে আর্জি পেশ করতে দিন যায় সৌভাগ্যক্রমে পারস্য থেকে এক দূত এল সম্রাট কুবলাই খাঁর দরবারে দূত জানাল, তাদের মহামান্য রাজা সম্রাট কুবলাই খার বংশের কোনো কন্যার পাণিগ্রহণ করতে ইচ্ছুক কুবলাই খাঁ সম্মত হলেন দূতের প্রস্তাবে কিন্তু এতদূরে কার তত্ত্বাবধানে প্রেরণ করবেন রাজকন্যাকে? কে বা কারা চেনে পারস্যের পথ? - খুব বেশি বেগ পেতে হল না সম্রাটকে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে মনের কোণে ভেসে উঠল পোলোদের কথা অত্যন্ত বিশ্বাসী ও রাজভক্ত সারা দুনিয়াটা যেন তাদের নখদর্পণে তার উপর ঘরে ফিরতেও চেয়েছিলেন তাঁরা সম্রাট পোলোদের ডাকলেন কাছে জিজ্ঞাসা করলেন তোমরা একদিন বাড়ি ফিরতে চেয়েছিলে, তাই না? পোলোরা বললেন হ্যা, সম্রাট আমি তোমাদের একটি শর্তে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দিতে পারি বলো, তোমরা সম্মত আছ?
-যদি মানুষের ক্ষুদ্রশক্তির বাহিরে না হয় তাহলে অবশ্যই সম্রাটের ইচ্ছাকে পূরণ করব খুশি হলেন কুবলাই খা বললেন--আমাদের বংশের এক কন্যাকে নিয়ে যেতে হবে পারস্যে সেখানকার রাজার সঙ্গে রাজকন্যার বিবাহও দিতে হবে তোমাদের এই কাজের জন্য তোমাদের যথেষ্ট উপহারও প্রদান করব আমি
পোলোরা সম্রাটের প্রস্তাবে সম্মত হলেন এবং রাজকন্যাকে নিয়ে মহানন্দে যাত্রা করলেন পারস্যে জলপথেই যাত্রা করেছিলেন তারা তাই পথের মাঝেই কেটে গেল কয়েকটা বছর যখন তারা পারস্যে উপনীত হলেন, তখন দেখলেন, যে-রাজা রাজকন্যার পাণিপ্রার্থী হয়েছিলেন তিনি আর ইহজগতে নেই সিংহাসনে বসেছেন নতুন রাজা পোলোরা তখন সেই রাজাকেই জানালেন সব কথা নতুন রাজা খুশিই হলেন এবং নিজেই বিবাহ করলেন সম্রাট কুবলাই খার বংশের কন্যাকে লাভও করলেন প্রচুর উপঢৌকন পোলোরা মুক্তিলাভ করলেন দায়িত্ব থেকে নতুন রাজার কাছ থেকে পেলেন মূল্যবান উপহার তারপর প্রচুর ধনরত্ন-মণিমুক্তা নিয়ে পারস্য থেকে স্থলপথে যাত্রা করলেন জন্মভূমি ভেনিসে এবারও রাস্তায় খরচ হয়ে গেল জীবনের কয়েকটি বছর
চব্বিশ বছর পরে পোলোরা ফিরে এলেন দেশে কিন্তু ভেনিসের কেউ তাঁদের চিনতে পারল না নিকটতম বয়স্ক আত্মীয়দের মধ্যে প্রায় সবাই লোকান্তরিত হয়েছেন লোকে ভুলে গেছে, পোলোরা একদিন এখানকার বাসিন্দা ছিলেন তাঁরা একরকম বিদেশীর মতো ভেনিসের পথে পথে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন এবং জনগণকে বুঝাতে চেষ্টা করলেন, তাঁরাই পোলো ভ্রাতৃদ্বয় ঘরের মধ্যে রত্নবর্ষণ দেখে স্তম্ভিত হলেন নিমন্ত্রিতরা প্রথমটা রূপকথার গল্পের মতোই যেন মনে হল তাদের অথবা মনে হল, যেন জেগে-জেগে স্বপ্নই দেখেছেন বিস্ময়ের ঘোর কাটতেও লেগে গেল অনেকক্ষণ তারপর পোলোদের মুখে শুনলেন তাঁদের ভ্রমণবৃত্তান্ত এবং প্রাচ্যের সম্পদের কথা পোলোদের কথা এবার ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে বহুজনে এল গল্প শুনতে শুনতে-শুনতে ভেনিসের লোকের ধারণা হল, পোলোরা মনোরঞ্জন করার জন্য অবিশ্বাস্য তথ্যগুলিকে পরিবেশন করেছেন তা না হলে পাথর কি কখনও জ্বলতে পারে? মানুষের গায়ের রঙ কি পীত হতে পারে? জানোয়ারের নাকের উপর কি শিং গজাতে পারে? এত ফসল কি ফলতে পারে মাঠে? গল্প শুনতে ভালো লাগে বলে সবাই আসত পোলোদের কাছে কিন্তু বিশ্বাস করত না কেউ আড়ালে ঠাট্টা-বিদ্রুপই করত দেশে প্রত্যাবর্তন করার কিছু পরে দেশের নিয়ম অনুযায়ী মার্কোকে যুদ্ধে যেতে হল জেনোয়াবাসীদের সঙ্গে এক জলযুদ্ধে বন্দি হলেন তিনি ফলে কারাগারে স্থান গ্রহণ করতে হল মার্কো পোলোকে তাঁর মতো আরও অনেকে কারাবরণ করেছিলেন সবাই ধরে বসলেন গল্প শোনানোর জন্য মার্কোও তাঁদের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে আরম্ভ করলেন গল্প কিন্তু দিন যতই কাটতে লাগল, ততই নতুন নতুন শ্রোতার আমদানি হল এবং একই কথাকে বারবার বলতে হল শেষপর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লেন তিনি মনে মনে ঠিক করলেন, তাঁর ভ্রমণকাহিনীটা লিখে ফেললেই গল্প বলার কষ্ট থেকে অব্যাহতি পাওয়া যাবে কারাগারে মার্কোর এক অন্তরঙ্গ বন্ধু ছিলেন নাম তার পিসান রাসটিসিয়ানো প্রাচ্যের অসম্ভব সব কাহিনী শুনতে তাঁর খুবই ভালো লাগত মার্কো তাঁর ভ্রমণকাহিনী লেখার ইচ্ছা প্রকাশ করলে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে উঠলেন এবং নিজেই গ্রহণ করলেন লেখার ভার এরপর মার্কো একে একে সব ঘটনা বলে যেতেন, আর পিসান তাই চটপট লিখে ফেলতেন খাতায় এই ভ্রমণকাহিনীর প্রতি কেউ-যে আস্থা স্থাপন করতে পারবে না, -কথা জানতেন মার্কো পোলো তাই সর্বশেষে উল্লেখ করে গেছেন, আমি এই কাহিনীকে আদৌ অতিরঞ্জিত করিনি বরং যা দেখেছি তার ভগ্নাংশ বর্ণনা করতে পেরেছি মাত্র মার্কো পোলোর ভ্রমণবৃত্তান্ত ইউরোপকে প্রচণ্ডভাবে দেশ-আবিষ্কারে অনুপ্রাণিত করেছিল তবে দেশ-আবিষ্কারক হিসাবেও পোলোদের নাম আছে এশিয়ার পার্বত্য-অঞ্চলের একটি স্থানের নাম ওভিস পোলি ঐ নামটি পোলোদের নামকেই বহন করে চলছে

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য